- Advertisement -

সিলেটে ৩ দিনে কয়েক লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম

পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়েছে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত সিলেট। টানা তিনদিনের ছুটিতে সিলেটে ভীড় জমিয়েছেন কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। তীব্র গরমও আটকাতে পারেনি মানুষকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা প্রতিদিনই ছুটেন প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে। এদিকে, গেল দিনদশেক আগেই সিলেটের সকল হোটেল-মোটেল বুকিং করে রেখেছেন পর্যটকেরা।

গরমে ঠান্ডা পানির জলরাশি বেশি আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। তাইতো ঠান্ডা জলরাশিতে গা ভেজাতে পর্যটকেরা বেছে নেন প্রকৃতির অপরূপ রূপে সাজানো সিলেটকেই। সিলেটের জাফলং, সাদা পাথর, বিছনাকান্দি, রাতারগুলে এমনিতেই প্রতিদিন পর্যটকদের আগমন ঘটে থাকে। তবে ছুটির দিন এলে বেড়ে যায় পর্যটকদের বিচরণ। এই তিনদিনেও কয়েক লক্ষ মানুষের জনসমাগম ঘটে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। এতে করে ঐ এলাকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ব্যবসা জমে উঠেছে। তারাও অনেক খুশি পর্যটকদের পেয়ে।

সিলেটের সাদা পাথরে ৪৫ জনের একটি গ্রুপ আসছেন ঢাকা থেকে। তাদের সঙ্গে থাকা আবির হাসান জানান, এ প্রথম সাদা পাথরে ঘুরতে আসলাম। জায়গাটা সত্যিই চমৎকার। সাদা পাথরের স্বচ্ছ পানি আবার আসতে আকৃষ্ট করেছে।

সাদা পাথরের হোটেল আল বেলার মালিক লিটন মিয়া জানান, ঈদের পরে এই তিনদিনেই সর্বোচ্চ পর্যটকের উপস্থিতি। তবে আমরা এর চেয়েও বেশি পর্যটকের আশা করেছিলাম। তারপরও ব্যবসা হয়েছে অন্যদিনগুলোর চেয়ে ভালো।

বিছকান্দি ট্যুরিজম ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন শিমুল জানান, বিছনাকান্দিতে আগে যেখানে ছুটির দিনগুলোতে হাজার পাঁচেকেরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটতো, এখন এই তিনদিনের ছুটিতে বেশি হলে প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।

রাতারগুলের ব্যবসায়ী সেলিম আহমদ জানান, বৃহস্পতিবারে পর্যটকের উপস্থিতি ২৫ হাজারের মতো থাকলেও পরে তা এই দুই দিনে অনেকটা কমে এসেছে। এখানে আসা প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ চলে গেছেন নৌকা পাননি ও তীব্র গরম ছিল বলে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং সাবজোনের পরিদর্শক মো. রতন শেখ জানান, এই ৩ দিনের প্রথম ২ দিনে জাফলং পর্যটনকেন্দ্রে  লাখখানেক করে মানুষের আগমন ঘটেছে। তবে শনিবার এর মাত্রা অর্ধেকে কমে আসছে। জাফলংয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় সজাগ রয়েছে। কেউ হারিয়ে গেলেও আমরা খোঁজে দিচ্ছি। শুক্রবারে ২ জন পর্যটক তাদের পরিবার থেকে হারিয়ে যান। পরে আমরা পরিবারের কাছে তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি।

সিলেট হোটেল এন্ড গেস্ট হাউজ গ্রুপের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব জানান, এখন মানুষ ইউরোপ-আমেরিকার মতো আধুনিক হয়েছেন। যেকারণে ছুটি পেলেই তারা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য যেতে চাইলে আগেই থাকার জায়গাটি নিশ্চিত করেন। এ কারণে গত ২/৩ সপ্তাহ আগ থেকেই সিলেটে এই তিনদিনের ছুটি কাটানোর জন্য হোটেল বুকিং দেওয়া শুরু করেন৷ যার কারণে সপ্তাহখানেক আগথেকেই সিলেটের সকল হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে যায়।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজং জানান, সাদা পাথরে এই ৩দিনে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। আমাদের ধারণা ছিল লক্ষাধিক পর্যটকের উপস্থিতি থাকবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবি সবসময় রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যেই ঘুরতেছেন সাদা পাথরে।

মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published.

প্রতিনিয়ত সি এন এন ঢাকার সর্বশেষ খবর মোবাইলে নোটিফিকেশন পেতে.. হ্যা বিস্তারিত